অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে হচ্ছে না ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি চুক্তি: আশিক চৌধুরি

প্রকাশ :

সংশোধিত :

শ্রমিকদের আন্দোলন চলার মধ্যে বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে হচ্ছে না।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক সরকারের সময়ে তা হতে পারে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। 

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) পরিচালনার ভার আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে রোববার থেকে ফের লাগাতার ধর্মঘটে নেমেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

সকাল ৮টা থেকে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন। বিভিন্ন জেটিতে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে, থেমে আছে পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও।

সকাল থেকে বন্দরের ভেতরে কোনো ধরনের ট্রেলার বা পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন প্রবেশ করেনি। আন্দোলনকারী শ্রমিকনেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে।

গত ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে তারা বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে যান। গত মঙ্গলবার থেকে সংগ্রাম পরিষদ লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন।

এ অবস্থায় ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস অফিস।

সেখানে বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, কনটেইনার ব্যবস্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা করতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির খসড়া বিনিময় করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

তিনি বলেন, “নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল সংক্রান্ত চলমান আলোচনার অগ্রগতিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড সন্তুষ্ট।

“এখন পর্যন্ত আলোচনার যে অগ্রগতি হয়েছে, ডিপি ওয়ার্ল্ড তার প্রশংসা করেছে। ডিপি ওয়ার্ল্ড আমাদের জানিয়েছে যে, তারা ‘ড্রাফট কনসেশন এগ্রিমেন্ট (চুক্তির খসড়া)’ গ্রহণ করেছে এবং বিস্তারিতভাবে রিভিউ করবে। তারা কিছু সময় চেয়েছে, বাস্তবিকভাবে দেখলে, হাতে খুব বেশি কার্যদিবস নেই।”

কন্টেইনার ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের কাছে দেওয়ার বিষয়ে শ্রমিক অসন্তোষ থাকলেও বিডি চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘ড্রাফট কনসেশন এগ্রিমেন্ট পর্যালোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছে তারা (ডিপি ওয়ার্ল্ড)।’’

সেই সময় কতদিন হতে পারে? জবাবে তিনি বলেন, “পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা নিশ্চিত করার আলোচনাটি সম্ভবত নির্বাচন পরবর্তী প্রশাসনের সময়কাল পর্যন্ত গড়াতে পারে।”

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তিটি হওয়ার কথা চলছে। নির্বাচনের আগেই চুক্তি হয়ে যাবে, এমন গুঞ্জনও ছিল।

এই সরকারের সময়ে চুক্তি সম্পাদিত না হলেও তা থেমে থাকছে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, “দর কষাকষি চলতে থাকবে। নির্বাচন পরবর্তী সরকার তা এগিয়ে নিবে।”

দেশি-বিদেশি দুটো প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্রায়াত্ত, এ কথা তুলে ধরে চৌধুরী আশিক বলেন, “জি-টু-জি নেগোসিয়েশনের ক্ষেত্রে প্রথমে দুই দেশের সরকারের মধ্যে এমওইউ সই হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা। এই ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও অন্য দেশের সরকার মনোনীত কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিপিপি আলোচনা শুরু হয়।”

কনটেইনার ব্যবস্থাপনা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয় ২০১৯ সালে।

নানা ধাপ পেরিয়ে গত এক মাসে আলোচনাটি চূড়ান্ত ও সবচেয়ে নিবিড় পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে তুলে ধরেন আশিক চৌধুরী।

বিভিন্ন দেশে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে হতে যাওয়া চুক্তিতেও বাংলাদেশের কেউ সম্পৃক্ত হয়ে সুবিধা নিচ্ছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে পিপিপি প্রধান নির্বাহী বলেন, “সরকারি সব চুক্তিই সুক্ষ্মভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। কেউ সুবিধা নিয়ে থাকলে তাদের বিচার হওয়া উচিত।

“যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের কোনো অসঙ্গতি, সুবিধা নেওয়ার বিষয় আছে কি-না তা দেখা যেতে পারে। এখানেও সব ধরনের প্রক্রিয়া নেওয়া যেতে পারে স্বচ্ছতা আনতে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত না হয় তাহলে, অভিযোগকারীকে অন্তত সামাজিক সমালোচনায় আনা দরকার। আমি এরকম সব ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’’

পরবর্তী সরকারের জন্য বিডা চেয়ারম্যানের পর্যবেক্ষণ কি সাংবাদিক প্রশ্নে বন্দরের বহু সমস্যা রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘অনেক কিছু শুধু অভিযোগ আকারে বলা হয়। কিছু বিষয় সমাধান ফরজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখে রাজনৈতিক দলগুলোকে একমত হওয়া উচিত। রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে দলের উর্ধে রেখে আলোচনা করাটা প্রাসঙ্গিক।

‘‘আমি গত এক বছরে দেখেছি শুধু কাউন্টার পলিটিক্যাল পজিশন নেওয়ার জন্য বিরোধিতা হয়েছে। সেখানে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার না দিয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রধান্য দেওয়া হয়েছে।’’

সর্বশেষ খবর